চকরিয়ার মালুমঘাট আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্বসাতসহ জালিয়তির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিএনপি নেতা আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকার অর্থ আত্বসাত, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ স্বাক্ষর জালিয়তি করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগে জানাগেছে, বিগত ১৯৯৫ সনের ১ জানুয়ারী প্রতিষ্টা লাভ করে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট আইডিয়াল স্কুলটি। বিএনপির তৎকালীন এমপি সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ওই স্কুলটি প্রতিষ্টা করেন। মাধ্যমিক শাখায় বর্তমানে সাড়ে ৫শত শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলটি ২০০৪ সনের ১ এপ্রিল নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে ৯জন শিক্ষক-কর্মচারী সরকারের এমপিওভূক্তির আওতায় আসে। বর্তমান সরকারের ঘোষিত বিগত ২৩ আগষ্ট’১৯ এর জারীকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য আরো ৩টি ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সহকারি শিক্ষক যথাক্রমে আইসিটি, সামাজিক বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগারিক পদে গত ১৯ এপ্রিল’২০ ইং আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৪ মে’২০ চকরিয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে নতুন ৩জন শিক্ষক এমপিওভূক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানাযায়। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত ৩জন শিক্ষকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ ও আবেদনে প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুল পরিচালনা কমিটির কোর ধরনের সভা না ডেকে সভা করেছেন মর্মে যাবতীয় স্বাক্ষর স্ক্যানিং করে জালিয়তি ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া ৩০০ টার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও রেজুলেশন বহিতে স্কুল সভাপতিসহ অধিকাংশ সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়তি করেছেন। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, মালুমঘাট আইডিয়াল স্কুলের প্রাইমারী শাখায় কমিটি বিহীন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক। প্রাইমারী শাখা এমপিওভূক্ত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন উত্তোলন করা হয়। বেতনের এসব টাকা স্কুল ফান্ডে জমা হয়না। ফলে বছরে ৪/৫ লাখ টাকা করে বিগত ১৭ বছরে প্রাইমারী শাখার অন্তত ৮০ লক্ষ টাকা নামে-বেনামে আত্বসাত করা হয়েছে। প্রাইমারী শাখায় স্বচ্ছতার লক্ষ্যে দাতা সদস্য নজির আহমদকে সভাপতি করার জন্য প্রস্তাব দিলেও অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়তির লক্ষ্যে তাও করেনি প্রধান শিক্ষক। ঘটনার সত্যতা জানিয়ে মালুমঘাট আইডিয়াল স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, স্কুলের হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষক। আবদুল মালেককে একাধিকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন ধরনের কর্ণপাত করছেনা। স্কুল কমিটির সভা ডাকতে বললেও করেনি। যার কারনে তিনি সম্প্রতি শিক্ষকদের বেতনের চেকে এবং ৩জন শিক্ষকের এমপিও’র আবেদন কাগজপত্র স্বাক্ষর করেননি। অথচঃ প্রধান শিক্ষক সব স্বাক্ষর স্ক্যানিং ও জালিয়তি করে কমিটির সদস্য ও স্কুলের সাথে প্রতারণা করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.