কুতুবদিয়ার ওসিকে তুলোধোনা করলেন স্বেচ্ছাসেবক জাহেদ, আবেগঘন স্ট্যাটাস খোলা চিঠি ভাইরাল

 

বিশেষ প্রতিনিধি, কুতুবদিয়া ঃ এবার কুতুবদিয়া থানার ওসিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলোধোনা করে খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রশাসনের এক স্বেচ্ছাসেবক ও   শিক্ষানবিশ আইনজীবী।এটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়া দিয়েছে।

কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদৌস দীর্ঘ একটানা তিন বছর কুতুবদিয়া থানার ওসির দায়িত্ব পালন করে আসছে। ২০১৬ সালের ১৩ আগষ্ট ৩৫ তম অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

দীর্ঘদিন একই  থানায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওসি দিদারুল ফেরদৌস  কুড়িয়েছেন সুনাম সুখ্যাতি। এক সময়ে অনেকাংশে চোর, ডাকাত, সন্ত্রাস ও জলদুস্যু ডাকাত দলের ভয়ে  ছিল দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াবাসী। ওসি দিদারুল ফেরদৌস দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অশান্ত কুতুবদিয়ায় শান্তি ফিরতে শুরু করে। এক পর্যায়ে কুতুবদিয়া হয়ে উঠে প্রায় চোর, ডাকাত, সন্ত্রাস ও জলদুস্যু মুক্ত কুতুবদিয়া। কুতুবদিয়ার মানুষ শান্তিভাবে ঘুমাতে পেরে অনেকে নামায পড়ে দোয়া করেছে এমন খবরও প্রকাশ পেয়েছিল গণমাধ্যমে।

পরিশ্রমী ও সাহসী এ পুলিশ অফিসার ২০১৭ সালের প্রশংসনীয় ও ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগ হতে “আইজিপিএস ব্যাজ” অর্জন করেন।

ওসি মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদৌস একদিকে  সুনাম কু্ঁড়িয়েছেন বটে বর্তমানে তাঁর অর্জিত সকল অর্জন দিন দিন যেন ক্ষীন হয়ে আসছে। নানাভাবে মানুষকে হয়রানীসহ বিভিন্ন  অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে ওই ওসির বিরুদ্ধে। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ওসি দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে দুদুকের তদন্ত টীমকে  সাক্ষ্য দেয়ায় তাঁর ইন্ধনে দুদুকের সাক্ষীর উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শুধু তাই নয় ওসির বিরুদ্ধে বর্তমানে  বিচার প্রার্থীদেরও নানাভাবে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। উল্টো বিচার প্রার্থীদের মামলার হুমকি দেয়ায় নতুন ভাবে আলোচনা সমালোচনা চলছে কুতুবদিয়াবাসীর মাঝে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভূক্তভোগী জানিয়েছেন, ওসি দিদারুল ফেরদৌস কুতুবদিয়ার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেডকে হাতে রেখে নানাভাবে মানুষকে হয়রানী করছে। তাঁর কাছে কতিপয় ওই সিন্ডিকেডের লোকজন ছাড়া কেউ ন্যায় বিচার পায় না। মামলা কিংবা কোন অভিযোগ  ওই চক্রকের বিরুদ্ধে গেলেই ওসি নিজেই তাদের পক্ষ নিয়ে বিচার প্রার্থী পক্ষকে উল্টো হুমকি দিচ্ছে। ন্যায় বিচার তো দূরের কথা নিয়মিত মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীকেও দেন দরবার ছাড়া গ্রেফতার করছে না কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। এ রকম অহরহ অভিযোগ রয়েছে ওসির বিরুদ্ধে। ফলে দিন দিন আইন শৃঙ্খলার চরম বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানা যায়। এ যেন হবু চন্দ্রের রাজ্যে গবু চন্দ্র রাজা।

কতিপয় কিছু অনৈতিক প্রভাবশালী স্বার্থন্বেষী মহলের কথায় থানা পরিচালনা করায় বর্তমান এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে জবানবন্ধী দিয়েছেন। ওসির এমন অত্যাচার ও নির্যাতনে কেউ প্রতিবাদ কিংবা টু শব্দ করতে পারে না। সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে দোকানদারের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় যারা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল তাদেরকে থানায় এনে নির্যাতন করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।  এ ঘটনায় কয়েক পুলিশ সদস্যকে বদলীও করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।

এবার ওসির দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে হামলার শিকার শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে হয়রানীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে। ওই আইনজীবী অবশেষে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে কুতুবদিয়ার ওসি বরাবর খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। ওই আইনজীবীর দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাস খোলা চিঠি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে অনেকে থানা প্রশাসনকে নিয়ে নানা মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

এক ওসির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। সচেতন কুতুবদিয়াবাসী করোনা চলে গেলে ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণের  কর্মসূচী হাতে নেয়া হচ্ছে বলে ভূক্তভোগিরা জানিয়েছেন।

অনেকে বলেছেন একজন আইনের রক্ষক হয়ে ওসির ভক্ষকের ভূমিকা এটা কেমন কথা?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল ঃ

কুতুবদিয়ার ওসি মহোদয়ের প্রতি খোলা চিঠি ”

১.আমাকে আক্রমনের ঠিক আগের দিন আপনি আমার আব্বার কমর্স্থলের সম্মানিত প্রিন্সিপাল জনাব জাকের হোসাইন সাহেবকে ফোন দিয়ে জানালেন,”আপনার মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মঈনুল হক যার বাড়ী উত্তর লেমশীখালী,ওনি নাকি জামাতের ক্যাডার,ওনার ব্যাপারে কিছু বলেন তো “। প্রিন্সিপাল সাহেব বললেন,আমার মাদ্রাসায় যদি কেউ শতভাগ আওয়ামী লীগার থাকেন তাহলে সেটা এই মঈনুল হক সাহেব। আপনি জ্ঞিজ্ঞেস করলেন,কথাটা সত্য না মিছা, তারপরে ওনি জোর দিয়ে বললেন,এই ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নাই। অর্থাৎ একশো ভাগ সত্য।

আমার পরামর্শ, সম্মানিত ওসি সাহেব, আপনি ঐ প্রিন্সিপাল সাহেবকে জিজ্ঞেস না করে, যদি ঐ মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সভাপতি, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অর্থাৎ বর্তমানে যিনি কক্সবাজার জেলা পরিষদের কুতুবদিয়া উপজেলার সম্মানিত সদস্য, জনাব মাস্টার আহমদ উল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলেই আরো নির্ভূল তথ্য পেতেন। ওনি আমার বাবাকে আগাগোড়া চেনে।

আমি আপনার কাছে সবিনয়ে জানতে চাই,এই প্রশ্ন এতোদিন পরে কেন আসলো???যেদিন থেকে আমাকে কুতুবদিয়া উপজেলার ইউএনও স্যার লেমশীখালী ইউনিয়নের করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করলেন সেদিনই কেন এই প্রশ্নের অবতারণা হলো, যদি একটু দয়া করে বলতেন।

২.আমি আক্রান্ত হওয়ার পরে স্পট থেকে আমার ফোন পেয়ে ইউএনও আর এসি ল্যান্ড মহোদয়গণ স্বশরীরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুতুবদিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিতসা গ্রহণ করতঃ লিখিত অভিযোগ নিয়ে আপনার থানায় দ্বারস্থ হলে আপনি আমার কোনো কথাই না শোনে শুরুতেই বললেন,আমি আপনার সম্পর্কে সব জেনেছি। আমি অবগত হয়েছি এই বিষয়ে। কে আপনাকে অবগত করলো, কারা অবগত করলো, এই প্রশ্নে গেলাম না আমি। আপনি আমারে দীর্ঘ প্রায় ১ ঘন্টার উপরে সময় দিয়ে বুঝালেন আপনাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দের কথা যাহা আমি স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার আগে জানতামও না।

যাহোক, আপনার এই দীর্ঘ বক্তব্য দ্বারা এই বিষয়টাই আপনি আমারে বুঝাতে চেয়েছেন,” আমার কোনো কথাও না শোনে আপনি বললেন,তুমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছো, সুতরাং শিবিরের রাজনীতিই করো। উল্লেখ্য আমি গেছি আক্রান্ত লোক হিসেবে অভিযোগ দিতে, আর আপনি বললেন,তুমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র,সুতরাং শিবিরই করো। আশ্চর্য ! এই বক্তব্য এখানে কেন আসবে তা জানার জন্য এক বিরাট প্রশ্ন।

পরক্ষণেই আপনি বললেন,জাহিদ ভাই, আপনি আক্রান্ত হয়ছেন,এটা ঠিক, তবে আমি আপনার টাকা আর মোবাইল দুই তিন দিনের মধ্যে রিকাভার করে দিতে পারবো,কিন্তু আপনার দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ নিয়ে মামলা আকারে আগাবেন কিনা সেটা বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সাথে আলোচনা করে সিদ্বান্ত জানাবেন।

আপনি আরো বললেন,যদি তুমি মামলা আকারে আগাও তাহলে তোমার বিরুদ্ধ পক্ষ তোমার বিরুদ্ধে দু’টা এজাহার দিয়া গেছে, এসব মামলায় তোমাকে আসামী করা হবে, এমনকি ডাকাতির মামলা যেটা ইতিমধ্যে হয়ছে সেই মামলারও তুমি আসামী। আপনি বললেন,তুমি খুবই লাকি পার্সন যে, তুমি ডাকাতি মামলার আসামী হয়েও থানায় বসে সরাসরি ওসির সাথে কথা বলতে পারছো। এর প্রতিউত্তরে আমি বললাম,আমার ইউনিয়ন হল লেমশীখালী তে, তথাকথিত মিথ্যা সাজানো ডাকাতি মামলার ঘটনাস্থল হল, বড়ঘোপে,যেথায় সাত কিলোর উপরে মাঝখানে দূরত্ব, আমি কেমনে এই মামলায় আসামী হই??তখন আপনি মৃদু হাসি দিয়ে চুপ মেরে বসলেন।যাহোক সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল,আমি আক্রান্ত হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যাওয়ার আগেই আমার নামে বিরোধী পক্ষের দুটা এজাহার তাও আমার নামে, একি আজিব কাণ্ড !

৩.সর্বশেষ হতাশ আর বাকরুদ্ধ হয়ে চলে আসার সময় আমার লিখিত অভিযোগটা ফেরত চাইলে আপনি বললেন,আমরা তো এরকম ফেরত দেই না,তবে আপনার মোবাইল আর টাকা উদ্ধার করে দিব, আর মামলা নিয়ে আগাবেন কিনা সেটা মা-বাবার সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েন। এই কথাগুলো শুনে হতবম্ব হয়ে চলে এলাম,কিন্তু আজ পর্যন্ত আমার মোবাইলও উদ্ধার করে দিলেন না, টাকাটাও উদ্ধার করে দিলেন না কেন???

এবার স্বপক্ষে কিছু কথা বলি,শুনেন,

* ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই যদি শিবির হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আপনার কথা অনুযায়ী ঐ জামাইত্তা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে না কেন?? সরকার কেন এসব জামাইত্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না??

*এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কুতুবদিয়ার আমি ছাড়া আরো অনেকেই পড়েছেন।যেমন,আমার কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি যিনি বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পরিষদের কুতুবদিয়া উপজেলার সম্মানিত সদস্য জনাব মাস্টার আহমদ উল্লাহ সাহেবের সন্তানও ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বর্তমানে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন,আপনার যুক্তি অনুযায়ী তাহলে ওনিও কি শিবির করতেন??

*লেমশীখালী মালার পাড়ার লোক, কুতুবদিয়ার প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা ঈসমাঈল কুতুবীর সন্তান নোমান ভাইও ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এসেছেন,যিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় আছেন, তিনিও কি শিবির করেন??

*কুতুবদিয়ার ধূরুং হাই স্কুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাবেক শিক্ষক জনাব মাস্টার নেজাম উদ্দীনের সন্তান আমার বন্ধু আবিদুর রেজা, সেও কি শিবির করে, কারণ সেও তো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

আপনার মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে এভাবে ঢালাও মন্তব্য কোনো মতেই প্রত্যাশিত না। এই বক্তব্য আমাকে মারাত্বকভাবে আঘাত করেছে।

তারপরেও আরো শোনেন,আমি চট্টগ্রাম জজ কোর্টে শিক্ষানবিশ হিসেবে প্র্যাক্টিসরত আছি। ছবির এই মানুষটি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। ইনি আমার ইনটিমেশান সিনিয়র। স্যারের বাড়িও কুতুবদিয়া।

এই মানুষটি অত্যন্ত সৎ আর সহজ-সরল। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে যখন ওনি সভাপতি পদে প্রথম নির্বাচন করেন তখন নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আমি রাত-দিন পরিশ্রম করে ওনার জন্য নির্বাচনে কাজ করেছি। রাতকে দিন বানিয়েছি, দিনকে রাত বানিয়েছি।ওনার নির্বাচনের কারণে রাত তিনটা বেজেও বাসায় প্রবেশ করেছি।

স্যারের ফেসবুক আইডি নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমি জাহিদই চালিয়েছি। ওনি কোথায় কি বক্তব্য দেন, কোথায় কি করেন না করেন, কখন কার সাথে জরুররত মিটিংয়ে থাকেন, কখন কার সাথে দেখা করেন সব জায়গায় আমি জাহিদ আবশ্যিকভাবে থাকতাম।ওনার পরিচিয় পত্রে বিশাল আত্মজীবনী লেখন সহ, ছাত্র জীবনের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টের ইতিহাস আমার হাতের লেখাই ছিল। আমি-ই এসব লিখে ফেসবুকে পোস্ট করতাম।বলতে গেলে স্যারের আইটি খাতটা আমি নিজেই দেখাশোনা করতাম।

ওনার সাথে আমার কি ধরনের সম্পর্ক সেটা চট্টগ্রাম জজ কোর্টের অনেক বিজ্ঞ আইনজীবীও জানে। এরপরেও আজ এসে আমার কুতুবদিয়ায় রাজনৈতিক ভিন্ন তকমা পেতে হয়।

একটা মজার কথা বলি,অনার্স শেষে একদিন ওনার চেম্বারে গেলে দেখলাম পুরা চেম্বার ভর্তি আইনজীবী।ঠিক সেই সময়ে সৌদিতে শতশত হাজ্বী পদদলিত হয়ে মারা গেছিল,তখন সেই ঘটনা নিয়ে পুরা বিশ্ব আলোড়িত ছিল। তারপরের দিনের ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্ট্যার নিয়ে ওনার চেম্বারে উপস্থিত আইনজীবীরা সেই ঘটনা নিয়েই আলোচনা আর তর্ক-বিতর্ক করতেছিল।

আমি যাওয়া মাত্রই ওনি চিল্লায়া সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন,এই দেখো আমার নাতী আসছে, সে খুব মেধাবী। ইংরেজিতে বেশ পটু। সবাই আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে থাকিয়ে রইলেন। পরক্ষণেই ওনি বললেন,ধরো,দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই ডেইলি স্ট্যার পত্রিকার এই কলামটা পড়ে পড়ে সবাইকে বাংলা অর্থ বুঝাও। আমি ওনার আদেশে কিছুটা হতবম্ব হয়ে লজ্জিত কণ্ঠে পড়তে পড়তে একটা কঠিন ইংরেজি শব্দের” Downtrodden” মুখোমুখি হলাম।তখন ওনি বললেন,ওখানে দাঁড়াও, এই শব্দের অর্থ কি বল।
তখন আমি বললাম,পদদলিত হওয়া। এটা শোনে ওনি রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন,তোমার অর্থ হয়নি৷এরপরপরেই ওনি দাঁড়িয়ে নিজ পা মাঠিতে ডলে ডলে উদাহরণ দিয়ে বললেন,এভাবেই কাউকে মেরে ফেলাকেই Downtrodden বলে। এরপরে সবার সামনেই ক্যাশ ৫০০ টাকার নোট আমার হাতে সবার সামনে ওঠায় দিয়ে, বললেন,সবাশ ব্যাটা, ধরো তোমার বকশিশ।

এরপরেও যদি আপনি আমার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চান তাহলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান সভাপতি এড.সৈয়দ মোক্তার আহমদ স্যারকে জিজ্ঞেস করুন। আপনি আরো জিজ্ঞেস করুন,চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মানিত আইন বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি যার জনপ্রিয়তা চট্টগ্রাম জেলা বারে আকাশচুম্বী আর অপ্রতিদ্বন্দী ইফতেখার সাইমুল স্যারকে জিজ্ঞেস করুন, আমি কোনো রাজনীতি করি নাকি করি না, কোনো রাজনৈতিক আদর্শ লালন করি কি করি না, ওনাদেরকেই জিজ্ঞেস করুন।কারণ মোক্তার স্যারের নির্বাচনের সময় কাজ করতাম তখন ইফতেখার স্যারই আমাকে বলতো, জাহিদ,শরীরের ঘামে তোমার গায়ের কোটসহ ভিজে গেছে, একটু রেস্ট নাও।

আপনি আরো জানতে পারেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৯ কমিটির সাবেক নির্বাহী সদস্য যিনি কুতুবদিয়ার প্রথম ব্যারিস্টার হানিফ বিন কাসেম ভাইয়ের বড় বোন এড.পাইরিন আক্তার আপুকে জিজ্ঞেস করেন, আমি কোনো রাজনীতি করি কি করি না।

প্রিয় কুতুবদিয়া থানার ওসি মহোদয়, আপনার জ্ঞাতার্থে একটা কথা বলি,আমি আইনের ছাত্র,অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমরা আইনের ছাত্রদের মজ্জাগত।আপনি আমার সাথে যে কাজ করেছেন, তাহা কতটুকু যুক্তিনির্ভর তাহা বিবেচনার ভার আপনার উপর দিলাম।

আমি হলফ করে বলি,কুতুবদিয়ার ইউএনও মহোদয় যখন ডাক দিলেন করোনা প্রতিরোধে কিছু ভলান্টিয়ার দরকার, যারা হবে শিক্ষিত এবং করোনা বিষয়ে আপডেট নলেজ রাখবে যারা জনগণকে বুঝাতে পারবে আর প্রশাসনকে সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারবে, সেই অনুরোধে অনুরোদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লিখিয়েছিলাম।দল,মত,ধর্ম,বর্ণ এসব বাদ দিয়ে সবাইকে এই প্রাণঘাতী মহামারী থেকে প্রাণাধিক প্রিয় কুতুবদিয়াবাসীকে রক্ষা করতে সামান্য সহযোগিতা করাই ছিল আমার মূখ্য উদ্দেশ্য। শোনেন,শুধু ঐ একদিন দায়িত্ব পালনের সময় পকেট থেকে স্বেচ্ছায় ১০০০ টাকার মতো করোনা প্রতিরোধে নিজের পকেট থেকে খরচ করেছিলাম অনেকজনকে মাস্কও কিনে দিছিলাম তাও নিজের পকেট থেকে।

কিন্তু এর বিনিময়ে কি পেলাম??আমার বাবাকে জামাতের ক্যাডার বানিয়ে দিলেন,আমাকে শিবির বানিয়ে দিলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের টাকার বিনিময়ে কেনা সখের প্রিয় মোবাইলটাও হারাতে হলো,ক্যাশ ৫০০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেল,আমার জীবরের নিদাগী শরীরের ঠোঁটে সেলাই করাতে হলো, জীবনের প্রথমবারের মতো মাথাটা ফাটলো,ডান কানে ঘুষির জোরে হয়তো আজীবনের জন্য হিয়ারিংয়ে সমস্যা তৈয়ার হলো,এমনকি শরীরের বিভিন্ন আঘাতের কারণে প্রায় ৫০০০ এর মতো টাকা দিয়ে এই মহামারীতে মেডিসিন কিনতে হলো।

আচ্চা আমি প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে বারবার চিন্তা করেও কোনো সদুত্তর স্বগতোক্তি করেও মেলাতে পারি না, ওরা কেন আমার উপর আঘাত করলো,আমাকে আঘাত করে কি তাদের এমন ফায়দা হয়েছিল???আমি কোন স্বার্থগোষ্ঠীর ভাড়া ভাতে ভাগ বসিয়েছিলাম????আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলে কার পাতের ভাত কেড়ে নিতাম,দয়া করে এসব প্রশ্নের উত্তর কি কেউ দিতে পারবেন???

বিঃদঃ- অনেক দিন পরে এসব বলার অর্থ হলো,আমার অনেক বিজ্ঞ বড় ভাই আইনজীবীরা প্রায় প্রতিদিনই মেসেঞ্জারে বা ফোনে কল দিয়ে বারংবার বিরক্ত করে জানতে চাচ্ছেন, কেন আমার উপর আক্রমণ করা হয়েছে, আমার অপরাধ কি ছিল, সেই কারণেই আমার আজকের এই লেখা৷ কিন্তু বিশ্বাস করেন, আমি আদৌ জানতে পারছি না, কেন তারা আমার উপর হায়েনার মতো আক্রমনে করেছে। স্টিল জানি না।

জাহিদুল ইসলাম,
শিক্ষানবিশ আইনজীবী,
চট্টগ্রাম জেলা জজ কোর্ট।

 

কুতুবদিয়াবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক অপরাধীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সেসাথে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আশু হস্তেক্ষেপ কামনা করেছেন।

২৩ এপ্রিল কুতুবদিয়ার ইউএনওর স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্মমভাবে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় জাহেদুল ইসলাম  নামের এ আইনজীবী।

বিভিন্নজনের মন্তব্য ঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.