চকরিয়া কোনাখালী সিকদারপাড়া গ্রামে জমি বিরোধে এক ভূক্তভোগি পরিবারের অভিযোগ

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সিকদারপাড়া গ্রামে জমি বিরোধ নিয়ে ভূক্তভোগি এক পরিবারে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি জমির দখল ছেড়ে না দিয়ে উল্টো হুমকি ধমকি দেয়ায় ভুক্তভোগি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানাগেছে, কোনাখালী মৌজার বিএস খতিয়ান নং ৬৮ ও ৫৫, বিএস দাগ নং ১৪৫৩ (বশতভীটা) এবং বিএস দাগ নং ১৪৫০, ১৪৫১ ও ১৪৬৮ (নাল) এর মোট ৪কানি ৩৪ কড়া জমি রয়েছে। উক্ত জমির সমহারে মালিক হন মৃত দলিলুর রহমান ও মৃত আবুল কাসেম গং। কিন্তু দলিলুর রহমানের ওয়ারিশরা প্রাপ্যের অতিরিক্ত জবর দখলে রাখলে তা ছেড়ে দেয়ার জন্য বলায় অর্ধেক জমির মালিক মৃত আবুল কাশেমের পুত্র মোহাম্মদ কাইছারকে গত ২৯ এপ্রিল’২০ইং বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি প্রদান করে। এনিয়ে তিনি (কাইছার) বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে মৃত দলিলুর রহমানের পুত্র আনোয়ার হোসেন, মনির, নাজেম উদ্দিন ভূট্টে ও বাবুলকে।
জমি মালিকের পুত্র মোঃ কাইছার অভিযোগে জানান, বিগত ২০১০ সনের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় মৃত দলিলুর রহমানের পুত্ররা তাদের বাড়ি চালের উপর ইটের টুকরা ও ঢিল নিক্ষেপ করে। পরে ওইদিন রাত ১১.৪০ টার দিকে ১৮/১২ফুট বিশিষ্ট গোয়াল ঘরটি রাতের আধারে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনা নিয়ে থানায় তৎকালীন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তার (কাইছার) পিতা জীবিত থাকাবস্থায় প্রতিপক্ষ আত্বীয়স্বজন হওয়ায় আমাদের অংশের জমিতে অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য মৌখিক অনুমতি দেন আমার পিতা আবুল কাশেম। পরবর্তীতে পিতা আবুল কাশেম মারা গেলে বিগত চার বছরেও জমির দখল ছেড়ে দেয়নি। শর্ত ছিল যেকোন মুহুর্তে জমি ছেড়ে দেয়ার। যা অভিযু্ক্ত পরিবারের দলিলুর রহমানের ৬সন্তানের মধ্যে ২জন নুরুল হোসেন ও মোঃ হোসেন এখনো আমাদের পক্ষে প্রকাশ্যে স্বাক্ষী দেবেন। এবিষয়ে স্থানীয় কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা চেয়ারম্যানের বিচারে উপস্থিত হয়নি। হিসাবমতে খতিয়ান অনুযায়ী এক পক্ষ ২কানি ১৭ কড়া করে জমি পাবেন। কিন্তু আমরা দখলে আছি অধিকাংশ সরকারি খাস জমি। তাও প্রতিবেশি কিছু পরিবার দাবী করছেন। প্রয়োজন হলে উক্ত খাস দখলীয় জমি ছেড়ে দেবেন, এরপরও খতিয়ানভুক্ত জমি বৈধপন্থায় দখলে নেব। এজন্য জমি মালিক পক্ষের মোঃ কাইছার থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনী সহায়তা চেয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, জমি বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য থানার উপপরিদর্শক মোঃ ফরহাদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.