কুতুবদিয়ায় স্বেচ্ছাসেবকদের ডাকাত তকমাঃ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়

 

 


এ.কে.এম রিদওয়ানুল করিম ঃ
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুতুবদিয়ায় কাজ করছে থানা পুলিশ, ৪০ আনসার-ভিডিপি সদস্য ও ১৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক।
স্বেচ্ছাসেবকগণ রাত দিন পালা বদল করে দায়িত্ব পালন করছেন কুতুবদিয়াবাসীর সুরক্ষার জন্য। বিনা পয়সায় স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এসব স্বেচ্ছাসেবক দল। এরা মাতৃভূমি রক্ষার মহান শপথ নিয়ে হাটে বাজারে, স্টীমার ঘাট ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মোট ২০ টি জায়গায় জনসমাগম ও বহিরাগমন টেকাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। যার কারণে পার্শ্ববর্তি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও বাঁশখালী উপজেলায় করোনা অাক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলেও এখনো একজন মানুষও অাক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি কুতুবদিয়ায়। প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকার কারনে সাফল্য হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। কিন্তু কে জানে? যাদের কারণে কুতুবদিয়াবাসী অাজ নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো রয়েছে। রয়েছে করোনার মত মহামারী রোগ থেকে মুক্ত । তাদেরকে ডাকাত তকমা নিয়ে কাজ করতে হবে? হ্যা ১৩০ জন স্বেচ্ছাসেবকদের ডাকাত বলে তকমা দিয়েছেন কুতুবদিয়ার কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল। জাতীর চরম ক্রান্তীকালে যেসব তরুণেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন পাহারা দিয়ে অাসছে মা বোন বাপ ভাই তথা কুতুবদিয়াবাসীকে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে তারা নাকি ডাকাত। এ খবর ইউএনও কুতুবদিয়া ফেসবুক অাইডি থেকে জানতে পেরে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুতুবদিয়াবাসী।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর করোনা মোকাবিলায় কুতুবদিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন ও জন সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে দিক নির্দেশনা দিয়ে তাদেরকে পরিচালিত করা হচ্ছে বলে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

কোভিড -১৯ বা নভেল করোনা ভাইরাস তৃতীয় বিশ্বের মূর্তিমান্‌ আতঙ্কের অপর নাম৷ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পরা শক্তিধর দেশ গুলো বাড়িয়েছে তাদের শক্তির পরিধি , যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার৷ পরিস্থিতি পাল্টে দিল ক্ষুদ্র একটি ভাইরাস, তাকে মোকাবিলায় শক্তিধর দের শক্তি ও যেন হার মেনেছে নত মস্তকে ৷

করোনা মোকাবিলার সব ছেয়ে বড় শক্তি হল গণ সচেতনতা ও সংযম, আপাততঃ সেটার কোন বিকল্প নেই বললেই চলে৷ সেই লক্ষেই কুতুবদিয়া উপজেলায় প্রশাসনের পাশাপাশি গন সচেতনতা তৈরি ও প্রশাসন কে তথ্য ভিত্তিক সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে কুতুবদিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের এক ঝাঁক আত্মপ্রত্যয়ী তরুণদের নিয়ে ১৩০ জনের স্বেচ্ছাসেবি দল গঠন করা হয়েছে৷ তাদেরকে মাঠে বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজে লাগানো হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সার্বিক দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর৷

গত ১২ই এপ্রিল রবিবার উপজেলা অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবি টিম কে মাঠে নামানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে তাদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন নির্বাহী কর্মকর্তা – মীর৷ এর পর থেকে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিমকে করোনা মোকাবেলায় সমগ্র কুতুবদিয়ায় বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর জানান, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শুধু একটাই, চলমান করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে এক যোগে সকল স্থর থেকে কাজ করে যাওয়া৷ করোনা সংক্রমন ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা মুখি ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে প্রতিনিয়ত তাই নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এতই ব্যাপক ও জটিল যে, শুধু মাত্র সরকারী জনবল নিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শত ভাগ সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়, তাই সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাশাপাশি সহযোগী টিম হিসেবে একটা স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছি৷ সে মোতাবেক দ্রুত সংক্ষিপ্ত নির্দেশা দেয়ার মাধ্যমে কাজে লাগানো হয়েছে তাদেরকে। পাশাপাশি ৪০ আনসার সদস্যকে কাজে লাগানো হয়েছে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সক্ষমতা নিয়ে।

বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায়, এই টিম দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের সহিত কাজ করে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সফলতার ধার প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে । ঠিক তখনি স্বেচ্ছাসেবি দলের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটনা করছে এক শ্রেনীর স্বার্থান্বেষী মহল। স্বেচ্ছাসেবকদল দায়িত্ব নিয়ে কাজ করাতে কিছু ধান্ধাবাজ লোকের অবৈধ উপার্জন বন্ধ হওয়ায় উদ্দেশ্যেমূলকভাবে তাদের বিরুদ্ধাচার মিথ্যা ডাকাত তকমা দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্ণধার তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতে দেশের স্বার্থে কাজ করা থেকে যাতে বিমুখ না হয় সেজন্য স্বার্থান্বেষী  মহলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক  আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আাকর্ষণ করেন কুতুবদিয়ার সচেতন মহল।

নাম না বলার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, মুলত স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ ডাকাত নয় তারা কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করাতে বাহির থেকে এসে কেউ কুতুবদিয়া ডুকতে পারে না তাতে এক শ্রেণীর মানুষের ধান্ধা বন্ধ হয়ে গেছে, অনেকে অনৈতিক সুবিধা করতে পারছে না তাই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্ঠা করা হচ্ছে বলে জানান।

কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, জাতীর এই ক্রান্তি লগ্নে মানব সেবায় নিয়োজিত করতে পেরে নিজেকে সুভাগ্যবান মনে করছি৷ দেশের জন্য আমরা জীবনবাজী রেখে কাজ করছি। অামরা ১৩০ জন ছাত্র স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব নিয়ে রাত দিন পরিশ্রম করে কুতুবদিয়াবাসীর মা বোন বাপ খালাদের সুরক্ষার কাজ করে যাচ্ছি। বিনিময়ে অামরা একটা টাকাও নিচ্ছি না। কিন্তু একটি মহল অামাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। তাতে অামাদের কোন দুঃখ নেই। অামরা জীবনবাজি রেখে কাজ করে যাব। ইনশাল্লাহ।

কুতুবদিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে করোনা দূর্যোগ মোকাবিলার এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণে উপজেলা প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানান কুতুবদিয়ার সর্বস্থরের জনসাধারণ। উপজেলা প্রশাসনের এই ভিন্ন ধর্মী উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসিত হয়েছে৷ কুৎসা রটনাকারী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অাইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন কুতুবদিয়াবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.