রোহিঙ্গা নেতা ইউসুফের হত্যাকারী দুই রোহিঙ্গা অস্ত্রসহ আটক

গত ২০ জানুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়ার তানজিমারঘোনা শরণার্থী শিবিরে গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেত ইউসুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই রোহিঙ্গাকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাব।

বুধবার ভোরে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৭ সদস্যরা তাদের আটক করেন।

আটক দুই রোহিঙ্গা হলেন— নুর মোহাম্মদ (৩০) ও আতাউর রহিম (১৬)। রোহিঙ্গা নেতা ইউসুফকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার কার্যালয়ের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল বালুখালী ক্যাম্পে অভিযান চালায়। এসময় গত ২০ জানুয়ারি উখিয়ার তানজিমারঘোনা শরণার্থী শিবিরে গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা ইউসুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ ও আতাউর রহিমকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দু’টি লম্বা কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আটক দু’জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গা নেতা ইউসুফকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে তাদের সোপর্দ করা হবে বলে জানান তিনি।

বালুখালিতে আরেক রোহিঙ্গা নেতা খুন
(২৩ জানুয়ারি,২০১৮) কক্সবাজারের বালুখালি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে সোমবার সম্প্রদায়টির আরেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, ইউসুফ আলি (৬০) নামের ওই রোহিঙ্গা নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন বলে অপর এক সূত্র জানিয়েছে।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গার নিজ দেশে ফিরে যাওয়া নিয়ে যখন উত্তেজনা চলছে, তারই মধ্যে এই ঘটনা ঘটলো।

এর আগে শুক্রবার বালুখালি শিবিরেই মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক রোহিঙ্গা নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী জামিলা খাতুন জানান, প্রায় ২০ জনের মতো মুখোশধারী লোক তাদের ঘরে হামলা করে ও তার স্বামীর মাথায় গুলি করে হত্যা করে।

তিনি বলেন, গুলি করার পর তার স্বামী ‘ও আল্লাহ’ বলে শব্দ করে ওঠে। এরপর তাকে দ্বিতীয় গুলি করা হয়। পরে তিনি পড়ে যান।

জামিলা আরো বলেন, ‘তারা রোহিঙ্গা ভাষায় কথা বলে। তারা আমার স্বামীকে বলছিল, তুমি কেন তালিকায় নাম লেখালে? ওরা ছিল ক্ষুব্ধ।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের ফেরত পাঠানোর তালিকা তৈরি ও শনাক্তের কাজ শেষ না হওয়ায় আপাতত প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে গত মাসে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমার। তবে নিজেদের বাড়ির পরিবর্তে তাদের সেখানেও শরণার্থী শিবিরে থাকার কথা বলা হয়। দুই বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করার কথাও জানায় মিয়ানমার সরকার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি।

তিনি টেকনাফের দমদমিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসেন। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ক্যাম্পে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কর্তকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

এরপর জাতিসংঘের বিশেষ দূত টেকনাফ নেচার পার্কে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ পুরুষ ও ১০ জন নারীর সঙ্গে বৈঠক করে তাদের ওপর নির্যাতনের কথা শোনেন। পরে তিনি ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। এর পর ইয়াং হি লির দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখার জন্য জাতিসংঘের দূত ইয়াং হিলি পৌঁছেছেন।

এর আগে জাতিসংঘের দূত ইয়াং হিলি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণেই ছড়িয়ে পড়তে পারে চরমপন্থা।
গত বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন।

জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইয়াং হিলির বক্তব্যে আরো বলেন, দুর্ভাগ্যজনিত কারণে রোহিঙ্গাদের প্রতি কোনো রকমের সহানুভূতি বা সহমর্মিতা নেই মায়ানমার সরকারের।

শতকের পর শতক ধরে রোহিঙ্গাদের সাথে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে সবাই। কারণ তারা মানসিকভাবে বিশ্বাস করে রোহিঙ্গারা মায়ানমারের নাগরিক না।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে একটি প্রস্তাব পাশের আহ্বান জানান তিনি। একি সাথে রাখাইনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহিংসতার সাথে অং সাং সুচির জড়িত থাকার কথা বলেন হিলি।

হিলি আরো বলেন, মানবিক দিক আর বিশ্বব্যাপী নিজের জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যে সহিংসতা আর নির্যাতন কার হচ্ছে তা তিনি রুখতে পারতেন নোবেল জয়ী সুচি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.