কুতুবদিয়ায় প্রতিবন্ধীর প্রতি ইউএনও’র মহানুভবতা

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ কুতুবদিয়ায় এবার প্রতিবন্ধীর প্রতি মহানুভবতা দেখিয়ে মানবতার উজ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কুতুবদিয়ার ত্রাণকর্তা খ্যাত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর।

একজন প্রতিবন্ধি সারাদিন দোকানের দারজায় গিয়ে ভিক্ষা করে সংসার চালান। কভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব এখন লকডাউনে। তারই ধারাবাহিকতায় কুতুবদিয়া দ্বীপও লক ডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন।
কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুল গনীর ছেলে প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গির আলম দৈনিক বড়ঘোপ বাজার, উপজেলা গেইট, মেডিকেল গেইট এলাকায় প্রতিটি দোকানের দরজায় গিয়ে ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। তার সংসারে ৫ ছেলে মেয়ে। লক ডাউনের কারণে দোকান পাট সব বন্ধ।
উপজেলা সদরস্থ মেডিকেল গেইট আজম সড়ক দিয়ে প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গির আলম মন খারাপ করে হুইল চেয়ারটি ৭ বছরের তার ছেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে বাড়ির দিকে। লক ডাউনের দোকান পাট বন্ধ তাই রোড ফাঁকা। দৃশ্যটি চোখে পড়ে কয়েকজন সাংবাদিকের। তার সাথে কথা বলে সাংবাদিকরা।
সে ৫ সন্তানের জনক বলে দাবী করে। তার ভিক্ষা ভিত্তি করে সংসার চলে। দোকান পাট বন্ধ থাকায় তার ইনকাম নেই। সংসার চলে না। সে শুনেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি বে-সরকারিভাবে কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছে। কিন্তুু সে কোন পক্ষ থেকে ত্রাণ পায়নি।
বিষয়টি শুনে সাংবাদিকরা প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গির আলমের ছবি ক্যামেরা বন্ধি করে হুবহু তার কথাগুলি  ফেসবুকে পোষ্ট করে।
পোষ্টের ১৫ মিনিটের মাথায় কুতুবদিয়ার ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গির আলমের বাড়িতে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) কোখন চন্দ্র দাশ ও তার কর্মচারী কনকের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট পৌছে দেন। এ ত্রাণ পেয়ে তার পরিবার মহা খুশি। প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গির আলম ও তার পরিবার ধন্যবাদ জানিয়েছে ইউএনওকে। তখনই সে বলে উঠলো মানবতার ফেরিওয়ালা কুতুবদিয়ার ইউএনও।
এ ছাড়াও প্রতিবন্ধির ছবি ভাইরাল হলে মানবতার বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরায় একাধিক বিত্তবান ব্যাক্তি তাকে ত্রাণের সাহায্য দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছে। এ ধরণের মহৎ কাজে এগিয়ে আসায় দৃশ্যমান হচ্ছে প্রকৃত রূপ। এমন মহানুভবতার খবরে  কুতুবদিয়াবাসী ইউএনওকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। দ্বীপবাসী ইউএনওকে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.