চকরিয়ায় পাহাড়ের রিজার্ভ ভূমির গৃহহারা পরিবারকে নিজ জমিতে আশ্রয় দেয়ায় কাল হল ইউপি চেয়ারম্যানের

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বার আউলিয়া নগর গ্রামে পাহাড়ের রিজার্ভ বনভূমিতে পাহাড় ধ্বসে গৃহহারা হয়ে পড়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া একটি পরিবার। বিগত ৫ বছর পূর্বে পাহাড় ধ্বসের গৃহহারা পরিবারের গৃহকর্তা ছৈয়দ করিমকে স্বপরিবারে অস্থায়ভাবে নিজ খতিয়ানিভূক্ত সমতল জমিতে ছোট ঘর করে থাকার ব্যবস্থা করে দেন গরীব দরদি জননেতা লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার। পরবর্তীতে রিজার্ভ ভূমির পাহাড় ধ্বস স্বাভাবিক হয়ে গেলে চেয়ারম্যান কাইছারের মালিকানাধীন জমি থেকে পূণরায় একই রিজার্ভ দখলীয় জমিতে চলে যাওয়ার (স্থানান্তরিত হওয়ার) কথা দেন। কিন্তু আশ্রয় গ্রহণকারী গৃহকর্তা ছৈয়দ করিম মৃত্যু বরণ করায় বিগত ৪/৫ বছরেও কাইছারের মালিকানাধীন জমি থেকে অস্থায়ী ঘরটি সরিয়ে নেয়া হয়নি। চেয়ারম্যান কাইছার গত ১ বছর ধরে মৃত ছৈয়দ করিমের পরিবারের সদস্যদেরকে ঘর সরিয়ে নেয়ার জন্য তাগাদা দিলে নানাভাবে কালক্ষেপন করে। এরই মধ্যে কতিপয় কুচক্রি মহলের ইন্ধনে গত ১মাস পূর্বে নতুন করে আরো কিছু জমি দখলে নিয়ে ঘরের বারান্ডা নামায়। গত ১৫দিন পূর্বে স্থানীয়দের মাধ্যমে চেয়ারম্যান কাইছার বিষয়টি জানতে পেরে তাদের কাছে গিয়ে বিষয় কি জানতে চান। তখন তারা ১ সপ্তাহের মধ্য ঘর তুলে নিয়ে জমি খালি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সর্বশেষ ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ৯টার দিকে দু’পক্ষের মধ্যস্থতা ও সমন্বয়ে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে অস্থায়ী বাড়িটি অপসারণ করে উক্ত জমির পাশ্ববর্তী তাদের রিজার্ভ বনভূমিতে স্থানান্তরের কাজ চলে। তাতে মৃত সৈয়দ করিমের পরিবারের সদস্যরাও কাজ করেন। কয়েক ঘন্টা কাজ চলার পর হঠাৎ অদৃশ্য শক্তির কুচক্রি মহলের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে দেন এবং কতিপয় ভাড়াটিয়া লোকজন চেয়ারম্যান কাইছারের খতিয়ানি জমিতে এসে বাধা প্রদানসহ শ্রমিকদের উপর হামলে পড়ে এবং কথিত বসতঘর ভাংচুরের নাটক সাজায়।


লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার জানান, বারআউলিয়ানগরের ওই এলাকার তার মালিকানাধীন নলবিলা মৌজার বিএস খতিয়ান নং ৭৭, বিএস দাগ নং ৩২৪ এ ২ একর জমি রয়েছে। বিগত প্রায় দেড় যুগ ধরে ওই জমি শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলেও রয়েছেন। জমি কিছু অংশে মানবিক দৃষ্টিতে সৈয়দ করিমের পরিবারকে অস্থায়ীভাবে অাশ্রয় দিয়ে মানবতা দেখানোই আমার জন্য কাল হতে হচ্ছে। তাদের পূর্বের ভোগদখলীয় রিজার্ভ ভূমিতে চলে গেলে আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্তু অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়া আমার মালিকানাধীন খতিয়ানভূক্ত জমি জবর দখলে রাখতে কতিপয় কুচক্রি মহল নতুন করে ষড়যন্ত্র বুনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.