কল পেয়ে ২০/৩০ মিনিটে ত্রাণ পৌছে দিচ্ছেন কুতুবদিয়ার ইউএনও

কল পেয়ে ২০/৩০ মিনিটে ত্রাণ পৌছে দিচ্ছেন কুতুবদিয়ার ইউএনও

এ.কে.এম রিদওয়ানুল করিলঃ

অসহায়ের কান্না দেখে কাঁদে যে প্রাণ দুঃখে, এমন মানুষ হাজারটা নয় একটা থাকুক লক্ষে।

তিনি কুতুবদিয়ার ইউএনও জিয়াউল হক মীর, যার মন কাঁদে অসহায়ের জন্য,  অনাহারী, কর্মহীন, ঘরবন্ধি মানুষের খোঁজ নেন, ক্ষুধার্তদের মুখে খাবার তুলে দিয়ে তিনি এখন কুতুবদিয়ার ত্রাণকর্তা হিসেবে পরিচিত ।

ইউএনও জিয়াউল হক মীর যাকে চিনা না এমন কেউ  নেই। সবার মুখে মুখে একটি কথা ইউএনও স্যারকে ফোন দিলে খাবার চলে অাসে। অামাদের কোন চিন্তা নেই।

সারা দেশে যখন করোনা দূর্যোগে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, অভাব-অনটন। এর থেকে কুতুবদিয়াবাসীকে রক্ষা করতে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর।

মোবাইলে কল পেলেই গ্রামগঞ্জে  অলিতে গলিতে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান ওই কর্মকর্তা।

শনিবার সকাল থেকে সোমবার রাত ১০ টা  পর্যন্ত মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে প্রায় ৩৪০  অসহায়, হতদরিদ্র, কর্মহীন পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউএনও জিয়াউল হক মীর তার সরকারী গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। ত্রাণ পৌছে দেয়া এটা যেন  স্বভাবে পরিনত হয়েছে। মানুষের কাছে না গেলে ওই কর্মকর্তার ঘুম হয় না।  অসহায় মানুষকে খাবার দিতে পারলে নিজেই অাত্ম তৃপ্তি পান তিনি।

দিনের বেলায় যতক্ষণ অফিস থাকেন, ওই সময় কখনও করোনা সচেতনতামূলক মিটিং, কখনো হাসপাতালের চিকিৎসা বিষয়ে মিটিং, কখনও অফিসে আগত অসহায় মানুষকে ত্রাণ বিতরণ, আবার কখনও কখনও রাস্তায় টহলে ব্যস্ত থাকেন ওই কর্মকর্তা।

ইউএনও তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি uno kutubdia স্ট্যাটাস দিয়ে কুতুবদিয়াবাসীকে বলেন, ‘আপনারা বাড়িতে থাকেন। অামরা উপজেলা প্রশাসন অাছি অাপনাদের পাশে। অাপনার খাবার দরকার অামরা অাসছি অাপনার বাড়িতে।

বর্তমান করোনাভাইরাস প্রতিরোধ পরিস্থিতিতে আপনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, আপনার বাসায় খাবার সংকট থাকলে এবং সবার সামনে আপনি খাদ্য সহায়তা নিতে বিব্রতবোধ করলে অনুগ্রহ করে ফোন নম্বরে যোগাযোগ করুন। পরিচয় গোপন রেখে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা আপনার বাসায় পৌঁছে দেব।’

গত তিন দিনে উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের হত দরিদ্র , কৈয়ারবিল , অালী অাকবর ডেইল, ধূরং বাজার,  অাকবর বলী পাড়া, লেমশেখালী, দক্ষিণ ধুরং,উত্তর ধূরং, বেডিবাঁধ সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে ৩৪০ অসহায়, কর্মহীন পরিবারের মাঝে নিজে ত্রাণ পৌঁছে দেন ইউএনও।

এভাবে গত কয়েকদিনে ৩৪০ পরিবারের মাঝে তিনি নিজেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে অসহায় পরিবারে মাঝে হাসি ফুটিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় উপজেলার ২ হাজারের অধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন জিয়াউল হক মীর।

কৈয়ারবিলের রফিকা বেগম বলেন, বাড়িতে কোন খাবার নেই। অনেক চিন্তা করেছিলাম ইউএনও স্যারকে ফোন করব। কিন্তু ভয়ে ভয়ে ফোন করতে পারিনি, শেষ পর্যন্ত অামার ভাইকে দিয়ে ফোন করাই।  অামার ভাই ফোন করার ২০ /৩০ মিনিটের মধ্যে অনেকগুলো খাদ্য সামগ্রী নিয়ে অামার বাড়িতে ইউএনও স্যার চলে অাসেন। অামি তো অবাক। খাবার পেয়ে অামি দুহাত তুলে স্যারের জন্য দোয়া করি।

ফোন করার ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন জিয়াউল হক মীর । একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মানবিকতা দেখে আমাদের চোখে পানি এসে যায়।

একই ইউনিয়নের জালাল অাহম্মদের স্ত্রী রুপিয়া বেগম বলেন, লোকজনের কাছে শুনেছি ইউএনওকে ফোন দিলে খাবার পাওয়া যাবে ভয়ে ভয়ে ফোন করেন।  ফোন দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ইউএনও স্যার দ্রুত আমাদের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসেন। ত্রাণ পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউএনও জিয়াউল হক মীরের জন্য  দোয়া করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.