চকরিয়ার হারবাংয়ে দুইটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট, আহত ১০

চকরিয়া অফিস:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আলীপুর গ্রামে দুইটি বসতবাড়িতে
হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় একই পরিবারের ১০ সদস্য আহত হয়েছে। ৬মার্চ ভোর রাত ৪টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা। এনিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এঘটনায় হামলার শিকার বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানাগেছে।
অভিযোগে জানাগেছে, বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদের পুত্র মো: ইউনুছ অভিযোগ করেন, তার পিতা বনবিভাগের দীর্ঘকাল ধরে বনজায়গিরদার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। এ সুবাদে বনবিভাগ থেকে রক্ষণা-বেক্ষণসহ শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলের জন্য বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদকে ৫একর জমি দেন বনবিভাগ। উক্ত জমিতে বিগত ৪০ বছর ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং ফসলী চাষাবাদ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় একই এলাকার আবুল কাশেমের পুত্র মো: মাশুক গং বিগত কয়েক বছর ধরে জমির কিছু অংশ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জবর দখলের চেষ্টাসহ হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ২ বছর আগে টীনের বেড়া দিয়ে জোরপূর্বক একটি বাড়িও নির্মাণ করেন। এনিয়ে থানা ও আদালতে (সিআর ১৬৬/২০ সহ) একাধিক মামলা এবং অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে স্থানীয় শালিস বিচারও হয়েছে। কিন্তু মো: মাশুক গং তা উপেক্ষা করে পূণরায় আরো কিছু পরিমাণ জমি জবর দখলের চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ ৬মার্চ ভোর রাতে অভিযুক্ত আবুল কাশেমের পুত্র মো: মাশুক, মো: আশেক, তার স্ত্রী আমেনা বেগম, মৃত হোছন আহমদের পুত্র আবুল কাশেম, তার ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, মৃত মুন্নার পুত্র রাহাত উদ্দিন, মেয়ে নুসরাত জন্নাত রেখা প্রকাশ ছুমকু, মো: মাশুকের স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস, আকবর আহমদের স্ত্রী হেমা আক্তার, আবুল কাশেমের স্ত্রী মরিয়ম খাতুনসহ ভাড়াটিয়া আরো ১০/১৫জন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এক পর্যায়ে বাড়ির পেছনের দরজা ও বেড়া ভাংচুর করে ভেতরে প্রবেশ করলে তাতে বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদসহ পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। ওই প্রতিপক্ষ ও তাদের লেলিয়ে দেয়া বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হন মরহুম সিরাজুল হকের পুত্র বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদ (৭৫), তার ভাই সেলিম উদ্দিন (৬৮), সৈয়দ আহমদের স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম (৫৫), সেলিম উল্লাহর স্ত্রী নার্গিস সোলতানা (৩৫)সহ একই পরিবারের ১০জন। আহতদের মধ্যে বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশংকাজনক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেছেন। এসময় লুট করে নিয়েগেছে বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদের পরিবারের ১লাখ ৩৫হাজার টাকা মূল্যের ৪ভরি স্বর্ণালংকার, আলমারিতে রক্ষিত নগদ ৩লাখ টাকা টাকা, গৃহপালিত ৪টি বড় ষাঁড় (গরু)। ভাংচুর ও তান্ডবের পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। একইভাবে অভিযুক্ত বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদের ছোট ভাই সেলিম উদ্দিনের একটি নির্মিত বসতবাড়িতেও ভাংচুর চালিয়েছে।
এদিকে মো: মাশুক গং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রাতের আধারে বাড়ির মূল্যবান আসবাবপত্র সরিয়ে রেখে অবৈধভাবে দখলে নিয়ে গড়ে তোলা নিজেদের ঘরে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বনজায়গিরদার সৈয়দ আহমদের পুত্র।
হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো: আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বসতবাড়িতে হামলা ভাংচুর এবং অপর একটি বাড়িতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.