চকরিয়ায় প্লট ভিত্তিক সামাজিক বনায়ন ও পাহাড়ের মাটি বিক্রি করছে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি

আতংকে উপকার ভোগিরা

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে অবৈধভাবে সামাজিক বনায়ন প্লট ভিত্তিক বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জামাল হোসেন। তিনি উলুবনিয়া গ্রামের মরহুম হাজী মফজ্বল আহমদের ছেলে। এনিয়ে ক্ষোভ ও আতংকে উপকার ভোগিরা। একইভাবে তার বিরুদ্ধে বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তার আচরণে অসহায় ও নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বনবিভাগ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনছুর আলম ও ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম, বনায়নের ১১০ হেক্টরের ১নং প্লটের উপকার ভোগি সৈয়দ নুর আহমদের পুত্র মাহমুদুল করিম লালুসহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জামাল হোসেন, তার সহযোগি ডুলাহাজারা ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী বোরহান উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি সংগবদ্ধচক্র বনবিভাগের ফাসিয়াখালী রেঞ্জের রংমহল হাতীপাড়া এলাকায় ১১০ হেক্টর বনায়নের ১নং প্লটের সামাজিক বনায়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ প্লট ভিত্তিক পাহাড়ী জমি ৩০০ টাকার ননজুডিসিয়াল স্টাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে বিক্রি করে আসছে। প্লট ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে; কবির আহমদের পুত্র নজির আহমদেরর নামে ৪০ কড়া, নুর মোহাম্মদের নামে ৩০ কড়া, কলেমা খাতুনের নামে ৪০ কড়া, ইয়াকুবের পুত্র আবদুল খালেক মেস্ত্রীর নামে ৪০ কড়া, মোঃ পারভেজের নামে ৪০ কড়া, মোঃ হোসেনের পুত্র বদিউল আলমের নামে ৩০ কড়া, ফয়জুর রহমানের পুত্র যথাক্রমে আলী হোসেন, নুর হোসেন ও নুরুল আবছারের যৌথ নামে ৬০ কড়াসহ অসংখ্য সামাজিক বনায়ন ও ১নং খাস খতিয়ানের জমি প্লট ভিত্তিক বিক্রয় করে আসছে। এছাড়াও সাফারী পার্ক সংলগ্ন রংমহল এলাকায় পাহাড় কেটে ডাম্পার গাড়ী ভর্তি করে মাটি বিক্রি করছে। অবাধে সামাজিক বনায়ন, পাহাড়ের মাটি ও গাছ কেটে বিক্রি করে চললেও সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। ইতিপূর্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বনবিভাগ মামলাও করেছে, ওই মামলায় ওয়ারেন্টও হয়েছে। উল্লেখিত বোরহান উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের নামেও ৪০ শতক করে জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।তবে তিনি (জামাল হোসেন) এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তার বিরুদ্ধে এক প্রকার ষড়যন্ত্র বলে জানান।
বনবিভাগেন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া বলেন, দলীয় প্রভাব বিস্তার করে এসব অপকর্মে তারা বাধা নিষেধ করেছেন। কিন্তু তারা তা তোয়াক্কা করছেনা। তিনি এরপরও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.