চকরিয়ার বদরখালী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুকুর লাগিয়তির দেড় লক্ষাধিক টাকা আত্বসাত

ফের ১লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় বিষ ঢেলে দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে পুকুর লাগিয়তি করে বিগত ৫ বছরে ৩০ হাজার টাকা করে দেড় লক্ষাধিক টাকা আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প:প: পরিদর্শক আবদুল মজিদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে ১লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সম্প্রতি রাতের আধারে পুকুরে কীটনাশকযুক্ত বিষ প্রয়োগ করে ইজারাদার কামাল উদ্দিন মেম্বারের প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে নষ্ট করে দিয়েছে। ইতিপূর্বে ভূক্তভোগী মৎস্য চাষী ও ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন মেম্বার বাদী হয়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে এমআর মামলা নং ৪৬/২০ইং দায়ের করেন। বাদী ইজারা গ্রহীতা কামাল উদ্দিন স্থানীয় বদরখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্বপুকুরিয়া খাসপাড়া গ্রামের মৃত জনাব উদ্দিনের পুত্র ও বিবাদী আবদুল মজিদ একই এলাকার আহমদ হোছনের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে ও অভিযোগে জানাগেছে, উল্লেখিত আবদুল মজিদ নিয়মবহির্ভূতভাবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প:প: পরিদর্শক হিসেবে নিজ ইউনিয়নে চাকুরী করছেন এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারের জন্য বরাদ্দকৃত থাকার ঘর (আবাসন) নিজেই ভোগ করছেন। একইভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন বদরখালী বাজারে প্রতিষ্ঠিত নিজ মালিকানাধীন ল্যাবে (প্যাথলজি) অবৈধভাবে বিদ্যুৎও ব্যবহার করেন। এনিয়ে অনেক প্রতিবাদও হয়েছে। ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য ও প:প: পরিদর্শক আবদুল মজিদের অত্যাচারে ও ধরায়শয়ী হয়ে কর্মস্থল ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে মেডিকেল অফিসার ডা: ছোটন কান্তি ও ডা: তামিমসহ যোগদাগকৃত অনেক স্টাফদের। অভিযোগ উঠেছে, উল্লেখিত আবদুল মজিদ বদরখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মালিকানাধীন ৩১শতক ও বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন ১৯শতক মোট ৫০শতক বিশিষ্ট একটি পুকুর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে বিগত ২০১৪সন থেকে কামাল উদ্দিন মেম্বারকে মৌখিক ইজারা দিয়ে প্রতি বছরে ৩০ হাজার টাকা করে ৫ বছরে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে বদরখালী সমিতিকেও দিতে হয়েছে প্রতি বছরে ৩০ হাজার টাকা করে ৫ বছরে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা টাকা। ২০১৯সন শুরুর পূর্বে বিরোধ সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সভাপতি হিসেবে বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে রসিদ মূলে ২০১৯সনে ৫ হাজার টাকা ও চলতি ২০২০সনে আরো ৫ হাজার টাকা দিয়ে পুকুরের ইজারা চুক্তি করেন এবং পুকুরে নতুন করে পরিচর্যাসহ ৩লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে রুই,কাতাল, মৃগেল, গলদা চিংড়া, তেলাপিয়া,নাইলেটিকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেন ইজারা গ্রহীতা কামাল উদ্দিন মেম্বার। কিন্তু স্বাস্থ্য ও প:প: পরিদর্শক আবদুল মজিদ নতুন করে কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। এনিয়ে আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী’২০ইং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে এমআর মামলা নং ৪৬/২০ দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতের আধারে পুকুরে কীটনাশকযুক্ত বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে নষ্ট করে ফেলেন। কিন্তু অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন অভিযুক্ত আবদুল মজিদ। তবে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্র জানান,বিষয়টি সর্ম্পকে যেহেতু ইউএনও আদালতে মামলা বিচারাধীন, তাই বেশি কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে শুনেছি বিগত বছরে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পুকুরটি লাগিয়ত করেছেন। তিনি আরো বলেন, ইউনিয়নের বাসিন্দা হলে ইউনিয়নে চাকুরী করতে পারবেননা এধরণের কোন প্রজ্ঞাপন আমাদের কাছে নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.