আত্মসাতের ৯২ লাখ টাকা মিলল অডিটরের বাসায়

কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণের পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আটক জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর মো. সৈয়দুজ্জামানের বাসা থেকে ৯২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জেলা শহরের কাতিয়ারচর এলাকায় সৈয়দুজ্জামানের বাসা থেকে এসব টাকা উদ্ধার করা হয়।

দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদক ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ, দুদক ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম ও মো. ফজলুল বারী।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাত ১২টার দিকে দুদক দলের সদস্যরা হারুয়া এলাকার কাতিয়ার চর খুরশীদের মাঠসংলগ্ন কিশোরগঞ্জ জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর সৈয়দুজ্জামানের বাসায় অভিযান চালান। একপর্যায়ে লুকিয়ে রাখা বাজারের একটি ব্যাগ থেকে নগদ ৯২ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সৈয়দুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্ধার করা টাকাগুলো ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের সরকারি তহবিলের আত্মসাৎ হওয়া টাকার অংশ বলেই ধারণা করছে দুদক কর্মকর্তারা। জব্দ করা টাকা কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরে তা সরকারি ট্রেজারিতে জমা করা হবে।

বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ তহবিলের পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলামকে গত ১৭ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে দুদক।

গ্রেপ্তারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সেতাফুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।  সেই সময় সেতাফুল ইসলাম জানান, টাকা আত্মসাতের ঘটনার সঙ্গে  কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর, সহকারী ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর মো. সৈয়দুজ্জামান ও অফিস সহায়ক মো. দুলাল মিয়াসহ আরো কয়েকজন জড়িত। এর মধ্যে টাকা আত্মসাতের কাজে সহায়তা করার জন্য অডিটর সৈয়দুজ্জামানকে পাঁচ লাখ আর অফিস সহায়ক দুলাল মিয়াকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেতাফুল।

সেতাফুলের দেওয়া জবানবন্দির সূত্র ধরেই কিশোরগঞ্জের গত ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মো. সৈয়দুজ্জামান ও পিয়ন দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

পরে তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানান ওয়াদুদ।

প্রণব কুমার বলেন, ওই জবানবন্দির ভিত্তিতেই সৈয়দুজ্জামানের বাসায় মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায় দুদক। এছাড়া আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় থাকা আরও নয় কোটি টাকার চেক জেলা প্রশাসন জব্দ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.