কুতুবদিয়ায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী মনজুর আলমের প্রকাশ্যে চলাফেরা, এলাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে

কুতুবদিয়ায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী মনজুর আলমের প্রকাশ্যে চলাফেরা,

এলাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুতুবদিয়ায় সাজাসহ প্রায় ডজন মামলার আসামী মনজুর আলম প্রক্যাশ্যে দিবালোকে চলাফেরাসহ সাইকেল চালিয়ে ঘুরাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এমনকি সারাদিন বাড়িতে অবস্তান করে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সকল কাজ করছে আসামী মনজুর আলম । এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে নানা গুঞ্জনসহ চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।নিজ পরিবারের গ্রেফতার দাবী উঠলেও পুলিশের এমন রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে অনেকটা সন্ধিহান ও বিপাকে পড়েছেন মামলার বাদী।

মনজুর আলমের খুঁটির জোর কোথায়? কি তার পরিচয়?

কুতুবদিয়ায় সাজাসহ ডজন মামলার আসামী কে এই মনজুর? বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর অপকর্মের তথ্য। কুতুবদিয়ায় জমির বিরোধে মেঝ ভাই পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে কক্সবাজার আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রের কর্মচারি ছোট ভাইকে। আহত ছোট ভাইকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর’১৯ দুপুর ২টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পরান সিকদার পাড়ায় ঘটেছে এ হামলার ঘটনা। হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে সাজাসহ প্র্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই গ্রামের মৃত করিম দাঁদের পুত্র কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালকের একান্ত সহকারি এ কে এম রিদওয়ানুল করিম (২৭) ছুটির দিনে বাড়িতে এসে পৈত্রিক জমি বন্টনের কথা বলতে গেলে বড়ভাই মনজুর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে রিদওয়ানের মাথার বাম পাশে ও বাম হাতে কোপ মেরে গুরুতর কাটা ও হাড় ভাঙ্গা জখম করে। মনজুর অালের স্ত্রী রাবেয়া বছরীও লোহার রড দিয়ে সারা শরীরে এলোপাতারী অাঘাত করে মারাত্মক জখম হাড় ভাঙ্গা থেতলানো জখম করে। এসময় তার অপর বড় ভাই মোজাফ্ফর আহাম্মদ, বোন রফিকা বেগম, ভাবী রেনুজা বাঁধা দিলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বেতার কর্মচারী রিদুয়ানের হাত ভেঙ্গে দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে। সরেজমিনে তদন্তে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষী দেন এলাকার বহু লোকজন। এঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় মামলা নং জি অার ৬/২০ দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও মনজুর আলম তার অপর ছোট ভাই ইসহাক ও তার স্ত্রীকে মারধরের মামলায় আদালতে এক বছরের সাজায় ১৫ দিন জেল খেটে জামিনে আসে। মনজুর অালম ওই সময় নিজেকে বাঁচার জন্য বৃদ্ধ মাকে বাদি করে ইছহাক ও তার স্ত্রীকে উল্টো ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেও বিজ্ঞ অাদালত ঘটনার সু্ষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে মনজুরকে ১ বছরের সাজা দেন। উল্লেখিত হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে অন্তত ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। সে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে বহু মামলার আসামী। কে এই মনজুর আলম? তার বিরুদ্ধে বিগত ১৯৯১ সালে কুতুবদিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে নকলসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট-ইউএনও’র হাতে-নাতে ধরা পড়লে তাৎক্ষনিক তৎকালীন ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলার ঘটনায় মামলার আসামী হয়। ওই মামলায় সাজাও হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে জনৈক জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে লুটপাট, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এলাকা ভিত্তিক ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১১ সালে জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে ফের হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১২ সালে আপন সহোদর রিদওয়ানের উপর হামলাসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত কুতুবদিয়া উপজেলায় ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজী ও নারী নির্যাতনসহ অন্তত আরো ৮টি মামলা রয়েছে। আপন সহোদর মোজাফ্ফর আহমদ ও তার স্ত্রীর উপর হামলাসহ গায়ে গরম পানির ডেক্সী তুলে দিয়ে সারা শরীর জ্বলসে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে কুখ্যাত মনজুর অালমের বিরুদ্ধ। মনজুর তার ছোট ভাই ইছহাককে বারবার মারধরের কারণে এক পর্যায়ে ইসহাক মানষিক ভারসাম্যহীন (পাগল) হয়ে যায়। ২০১৭ সালে ইছহাক ও তার স্ত্রী রেনজু বেগমকে মারধর করে হাত দ্বিখন্ডিত করে দেয়, ওই মামলায় কুখ্যাত মনজুরের বিরুদ্ধে ১ বছরের সাজা রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতার ছত্রছায়া ও ইন্ধনের কারণে নিজ পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা করেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে মনজুর আলম। মনজুর অাপন সহোদরকে ফাঁসানোর জন্য নিজের বৃদ্ধ মাকে মারধর করে মিথ্যা মামলা দিয়ে পার পাওয়ার অপচেষ্টা করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এমনকি পরিবারের সদস্যসহ এলাকার নিরীহ লোকজনকে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে মনজুরের বিরুদ্ধে। এ দিকে গ্রেফতার বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাবুল এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, আসামী মনজুর আলমকে  গ্রেফতারের জন্য সন্দেহভাজন স্থানে কয়েকবার অভিজান পরিচালনা করা হয়েছে ,এখনো গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে । মামলার বাদী এ.কে্. এম রিদওয়ানুল করিম জানান, “আসামী মনজুর আলম আমাকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে বাধ্য করছে, অন্যতায়  প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে । এমতাবস্থায় আমি মামলা দিয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় জীবনের নিরাপত্তাহীনকতায় ভোগছি। আমি দ্রুত সময়ে আসামী মনজুর আলমকে গ্রেফতার করার দাবী জানাচ্ছি ”। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “মনজুর আলমের খুঁটির জোর কোথায়? থানা প্রশাসন কেন তাকে গ্রেফতার করছে না ? একজন ওয়ারেন্টভুক্ত সন্ত্রাসী আসামী প্রকাশ্যে দিবালোকে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে, নানা অপরাধ করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না, এরকম নানা প্রশ্নসহ নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।  তারা প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসী মনজুর আলমের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.