কুতুবদিয়ায় বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে

ছবি ঃ বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার টাকা আত্মসাৎকারী কুলাঙ্গার সন্তান  পাষান্ড মনজুর আলম।

ছবি ঃ টাকার শোকে মুহ্যমান বৃদ্ধা মা জান্নাত আরা বেগম তার বড় ছেলে মোজাফফরের অসহায় পরিবারের সাথে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুতুবদিয়ায় সাজাসহ ডজন মামলা ও সহোদরের দায়ের করা মামলা নং জিআর ০৬/২০২০ এর ওয়ারেন্টভূক্ত  আসামী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে এবার নিজের মা ও বড় ভাইকে মারধর ও বিভিন্নভাবে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। মনজুর আলম তার অপরাপর ভাইদের পৈত্তিক সম্পত্তি ও বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য নানা চলচাতুরী মামলা হামলা করার পর এবার নিজের জন্মদাতা বৃদ্ধ মায়ের সাথে প্রতারণা করে জমি বিক্রির ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর কুতুবদিয়া কৈয়ারবিল পরান সিকদার পাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। বৃদ্ধা মা জান্নাত আরা বেগম তার চিকিৎসার জন্য নিজ নামিয় জমি বিক্রি করে। প্রতারক মনজুর আলম চিকিৎসা করানোর কথা বলে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর চিকিৎসা তো দূরের কথা উল্টা ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। বৃদ্ধা মা টাকা ফেরত চাইলে মারধর করে মনজুর ও তার স্ত্রী রাবেয়া বছরী। এ ঘটনায় মনজুরের বড় ভাই মোজাফফর প্রতিবাদ করলে মনজুর আলম মোজাফফর ও তার পরিবারকে মারধর করে। বৃদ্ধা মা টাকা না পেয়ে বর্তমানে টাকার শোকে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি মনজুরকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে নিষ্টুর মনজুর এখনো টাকা ফেরত দেয়নি। উল্টো নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতার প্রভাব ও থানার ভয় দেখিয়ে নিজের মা ও সহোদর মোজাফফরকে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে মনজুর।

মনজুর আলমের মা জান্নাত আরা বেগম কান্না করে বলেন, আমার ছেলে মনজুর আলমের হয়রানী আর সহ্য করা যাচ্ছে না। আমার চিকিৎসা করানোর কথা বলে জমি বিক্রির এক লাখ  টাকা হাতিয়ে নিয়ে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে আমাকে ও আমার বড় ছেলে মোজাফফরকে মারধর করছে। আমার বড় ছেলে মোজাফফরকে নানাভাবে হয়রানী করছে মনজুর। আমি দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।

১অক্টোবর ২০২০ তারিখ বৃদ্ধা জান্নাত আরা বেগম ছোলে মনজুর আলমের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কুতুবদিয়ার সাজাসহ বহু মামলার আসামী কে এই মনজুর?  ঘটনা প্রসঙ্গে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ঃ কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জমির বিরোধে মেজ ভাই পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে কক্সবাজার আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রের কর্মচারি ছোট ভাইকে। আহত ছোট ভাইকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর’১৯ দুপুর ২টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পরান সিকদার পাড়ায় ঘটেছে এ হামলার ঘটনা। হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে সাজাসহ ডজন মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই গ্রামের মৃত করিম দাঁদের পুত্র কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের চাকরিজীবী একেএম রিদওয়ানুল করিম (২৭) ছুটির দিনে বাড়িতে এসে পৈত্রিক জমি বন্টনের কথা বলতে গেলে  মেজ ভাই সন্ত্রাসী মনজুর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে রিদওয়ানের মাথার বাম পাশে ও বাম হাতে কোপ মেরে গুরুতর কাটা ও হাড় ভাঙ্গা জখম করে। এসময় তার অপর বড় ভাই মোজাফ্ফর আহাম্মদ, বোন রফিকা বেগম, ভাবী রেনুজা বাঁধা দিলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বেতার কর্মচারী রিদুয়ানের হাত দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে। এঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় মামলা নং ৬/২০ দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও মনজুর আলম তার অপর ছোট ভাই ইসহাক ও তার স্ত্রীকে মারধরের মামলায় আদালতে এক বছরের সাজায় ১৫ দিন জেল খেটে জামিনে আসে।

উল্লেখিত হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে অন্তত ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। সে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে বহু মামলার আসামী।
কে এই মনজুুর আলম? তার বিরুদ্ধে বিগত ১৯৯১ সালে কুতুবদিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে নকলসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট-ইউএনও’র কাছে হাতে-নাতে ধরা পড়লে কেন্দ্রের ভেতরে তাৎক্ষনিক ম্যাজিষ্ট্রেটর উপর হামলার ঘটনায় মামলার আসামী হয়। ওই মামলায় সাজাও হয়েছে। ১৯৯৬ সালে জনৈক জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে লুটপাট, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এলাকা ভিত্তিক ত্রাণ সৃষ্টির অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১১ সালে জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে ফের হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১২ সালে আপন সহোদরের উপর হামলার অভিযোগে মামলা ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত কুতুবদিয়া উপজেলায় ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজী ও নারী নির্যাতনসহ অন্তত আরো ৮টি মামলা রয়েছে। আপন সহোদর বড় ভাই মোজাফ্ফর আহমদের উপর হামলা  ও  তার স্ত্রীর শরীর গরম পানি দিয়ে জলসে দিয়েছে নিষ্টুর মনজুর আলম। সহোদর ইছহাককে বারবার মারধরের কারণে মানষিক ভারসাম্যহীন (পাগল) হয়ে যায়। ২০১৭ সালে ইছহাক ও তার স্ত্রী রেনুজা বেগমকে মারধর করে হাত দ্বিখন্ডিত করে দেয়, ওই মামলায় কুখ্যাত মনজুরের বিরুদ্ধে ১ বছরের সাজা রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,  কতিপয় কিছু খারাপ মানুষের ছত্রছায়া ও ইন্ধনের কারণে নিজ পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা করেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে মনজুর আলম। এমনকি পরিবারের সদস্যসহ এলাকার নিরীহ লোকজনকে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে মনজুরের বিরুদ্ধে। তারা প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসী মনজুর আলমের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.