কুতুবদিয়ায় সাজাসহ ডজন মামলার আসামী কে এই মনজুর আলম, বেরিয়ে আসছে নানা অপকর্মের তথ্য

নিজ পরিবারের গ্রেফতার দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জমির বিরোধে বড় ভাই পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে কক্সবাজার আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রের কর্মচারি ছোট ভাইকে। আহত ছোট ভাইকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর’১৯ দুপুর ২টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পরান সিকদার পাড়ায় ঘটেছে এ হামলার ঘটনা। হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে সাজাসহ ডজন মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই গ্রামের মৃত করিম দাঁদের পুত্র কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালকের একান্ত সহকারি একেএম রিদওয়ানুল করিম (২৭) ছুটির দিনে বাড়িতে এসে পৈত্রিক জমি বন্টনের কথা বলতে গেলে বড়ভাই মনজুর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী ভাড়া করে ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে রিদওয়ানের মাথার বাম পাশে ও বাম হাতে কোপ মেরে গুরুতর কাটা ও হাড় ভাঙ্গা জখম করে। এসময় তার অপর বড় ভাই মোজাফ্ফর আহাম্মদ, বোন রফিকা বেগম, ভাবী রেনুজা বাঁধা দিলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বেতার কর্মচারী রিদুয়ানের হাত দ্বিখন্ডিত হয়েগেছে। এঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় মামলা নং ৪/২০ দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও মনজুর আলম তার অপর ছোট ভাই ইসহাক ও তার স্ত্রীকে মারধরের মামলায় আদালতে এক বছরের সাজায় ১৫ দিন জেল খেটে জামিনে আসে।
উল্লেখিত হামলাকারী মনজুর আলমের বিরুদ্ধে অন্তত ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। সে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে বহু মামলার আসামী।
কে এই মনজুর আলম? তার বিরুদ্ধে বিগত ১৯৯১ সালে কুতুবদিয়া পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে নকলসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট-ইউএনও’র কাছে হাতে-নাতে পড়লে কেন্দ্রের ভেতরে তাৎক্ষনিক ম্যাজিষ্ট্রেটর উপর হামলার ঘটনায় মামলার আসামী,বর্তমানে ওই মামলায় সাজা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে জনৈক জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে লুটপাট, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এলাকা ভিত্তিক ত্রাণ সৃষ্টির অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১১ সালে জহির উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনের বাড়িতে ফের হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১২ সালে আপন সহোদরের উপর হামলার অভিযোগে মামলা ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত কুতুবদিয়া উপজেলায় ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজী ও নারী নির্যাতনসহ অন্তত আরো ৮টি মামলা রয়েছে। আপন সহোদর মোজাফ্ফর আহম ও তার স্ত্রীর উপর হামলার দায়ে মামলা রয়েছে। ইছহাককে বারবার মারধরের কারণে মানষিক ভারসাম্যহীন (পাগল) হয়ে যায়। ২০১৭সালে ইছহাক ও তার স্ত্রী রেনজু বেগমকে মারধর করে হাত দ্বিখন্ডিত করে দেয়, ওই মামলায় কুখ্যাত মনজুরের বিরুদ্ধে ১ বছরের সাজা রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতার ছত্রছায়া ও ইন্ধনের কারণে নিজ পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা করেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে মনজুর আলম। এমনকি পরিবারের সদস্যসহ এলাকার নিরীহ লোকজনকে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে মনজুরের বিরুদ্ধে। তারা প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসী মনজুর আলমের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.