পুলিশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত এসপি মাসুদ হোসেন

এ. কে.এম রিদওয়ানুল করিম :

২০১৯ সালে দেশের সেরা পুলিশ সুপার হলেন কক্সবাজারের এবিএম মাসুদ হোসেন। ১০২ জন উড়ন্ত ইয়াবা ডনদের পাখা ভেঙ্গে আত্মসমর্পন করিয়ে ও ৯৬ জন জলের কুমির জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগরকে আত্মসমর্পন করে সারা দেশে রীতিমত “পুলিশের হিরো” হয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন। সাহসী এই কাজের জন্য দেশ জুড়ে সর্বস্তরের মানুষের সাধুবাদ পেয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন। এ যেন পুলিশের এক অনন্য  দৃষ্টান্ত মাসুদ হোসেন।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করে কক্সবাজারে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছেন তিনি।  এই পর্যন্ত দেড় শতাধিক ইয়াবা কারবারী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

কক্সবাজারের এসপি মাসুদ হোসেনের কারণে দেশ জুড়ে সাধারন মানুষের পুলিশের উপর আস্থা বেড়েছে।

অসাধারণ এসব কাজের জন্য কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনকে বাংলাদেশ পুলিশের হিরোতে পরিণত করেছে। ২০১৯ সালের দেশের একমাত্র জেলা পুলিশ সুপার পুলিশের সর্বোচ্চ পদকের জন্য মনোনয়ন করা হয়েছে তাকে।

সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য টানা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ  পদকের জন্য কক্সবাজারের  পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেনকে মনোনিত করা হয়েছে। মাসুদ হোসেন ছাড়াও আরো ১১৮ জনকে এই পদকের জন্য মনোনিত করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন-ই এই পদক পাচ্ছেন।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশ্যাল অ্যাফেয়ার্স) হায়দার আলী খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২০ এ ৭ই জানুয়ারী মঙ্গলবার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এই পদক প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক তুলে দেবেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন জানান, পুলিশের সর্বোচ্চ পদকের জন্য তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। টানা দ্বিতীয় বারের মতো সম্মানজনক পদক বিপিএম পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বলেন, টানা দ্বিতীয়বারের মতো পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক পাওয়ায় আমি মহান আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কক্সবাজার জেলাবাসী ও কক্সবাজারের পুলিশের সকল সদস্য এই পুরস্কারের অংশিদার। এই জন্য তিনি কক্সবাজারবাসী ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, এক কঠিন সময়ে সরকার আমাকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলো। চেস্টা করছি কক্সবাজারের ইয়াবার দূর্নাম দূর করার জন্য। পাশাপাশি সারা দেশের ইয়াবার ছড়িয়ে পড়া রোধে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সাগরের জেলেদের মাছধরা নিরাপদ করতে জলের কুমির জলদস্যুদের আত্মসমর্পনে বাধ্য করিয়েছি। আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি । এই পদক প্রাপ্তি আমাকে দায়িত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা আরো বাড়িয়ে দেবে।’

বরিশালের কৃতি সন্তান পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন ২৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মেধাবী ও চৌকস পুলিশ অফিসার। পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) পদে দায়িত্বপালনকালীন সময়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ.বি.এম মাসুদ হোসেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.