চকরিয়ার চিংড়ি জোনে ত্রাস সাহাব উদ্দিন বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট ঘের মালিক-চাষীরা

চকরিয়া অফিস:
কক্সবাজারের চকরিয়ার চিংড়ি জোনে হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী চিংড়ি জোনের ত্রাস সাহাব উদ্দিন ওরফে ডাকাত সাহাব উদ্দিন বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে চিংড়ি ঘেরের মালিক ও চাষীরা। সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে মৎস্য ঘের থেকে অস্ত্রের মুখে মালিক-চাষীদের জিম্মি করে রেখে নিজেদের মৎস্য ঘেরের মত করে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে চলছে। তাদের বাধা দেওয়ার মত ক্ষমতাও ঘের মালিক চাষীদের নাই। ঘের মালিক ও চাষীরাসহ এলাকাবাসী চিহ্নিত সন্ত্রাসী-দস্যু বাহিনীর গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এ ধরণের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার অন্যতম চিংড়ি জোন বদরখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিমের ঘোনা ও পূর্বের ঘোনা, হায়দা খালের ষ্টেকের ঘোনা,উজানটিয়া ভেরুওয়াখালী, করিয়ারদিয়া, গান্ধীপাড়াসহ উপকূলীয় চিংড়ি জোন এলাকায়। উল্লেখিত ডাকাত সর্দার সাহাব উদ্দিন চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ১নং ওয়ার্ডের (১নং ব্লক) কুতুবদিয়া পাড়া গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। এছাড়াও তার বাহিনীর রয়েছে খ্যাত-অখ্যাত আরো অন্তত দুই ডজন চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।
অভিযোগে জানাগেছে, উল্লেখিত ডাকাত সর্দার সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় ২০১৯সনের ২৭ জুন মামলা নং ৫৬, জিআর ৩২৮/১৯। মামলার বাদী বদরখালী ১নং ওয়ার্ডের মৃত জানে আলমের পুত্র শাহজাহান মিটুর ৫ একর বিশিষ্ট মৎস্য প্রকল্প থেকে মাছ ও মালামাল লুটপাট। চকরিয়া থানায় ২০১৮ সনের ১ সেপ্টেম্বর মামলা নং ৩, জিআর ৫২৬/১৮, বাদী একই এলাকার মৃত আবদুর রহমানের পুত্র মোঃ ইয়াছিন। তার মৎস্য ঘেরে লুটপাট ও দস্যুতা। চকরিয়া থানায় ২০১২ সনের ১৩ সেপ্টেম্বর মামলা নং ৫, জিআর ১১১/১২ এর বাদী পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা গ্রামের দলিলুর রহমানের ছেলে আক্তার কামাল। চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (ইউএনও) আদালতে চলতি সনের ১৯ ফেব্রুয়ারী এম আর মামলা নং ২৮/১৯, ধারা ১০৭, ১১৭ (সি) দায়ের করেন ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড গান্ধী পাড়ার মৃত করিম দাদের পুত্র দিল মোহাম্মদ। চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চলতি সনের ২৮ মে সিআর মামলা নং ৩৬৫/১৯ দায়ের করেন ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড গান্ধী পাড়ার মৃত করিম দাদের পুত্র নুরুল কাদের। চকরিয়া থানায় ২০১৪ সনের ২ সেপ্টেম্বর মামলা নং ৫, জিআর ৪০৬/১৪ দায়ের করেন বদরখালী ইউনিয়নের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে বজল করিম।
এছাড়াও সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন অসংখ্য মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রয়েছে; বদরখালী ১নং ব্লক এলাকার জহির আহমদের পুত্র মামুন, জুবাইর আহমদের পুত্র সাদ্দাম, বজল আহমদের পুত্র ফরিদ আলম,আবদুল করিমের পুত্র নাজেম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, কচির উদ্দিন,মনির উদ্দিন, মৃৃত ইয়াকুব আলীর পুত্র আবদুল করিম, বাবুলের পুত্র মোঃ জিকু, জহির আহমদের পুত্র ফুরকান প্রকাশ কানা ফুরকান, পশ্চিম বড়ভেওলা দরবেশকাটা গ্রামের মৃত আহমদ আলীর পুত্র সেলিম ডাকাত, আলমগীর, মোহাম্মদ আলীসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত-দস্যুদল রয়েছে। ইতিপূর্বে র‌্যাব-কক্সবাজারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দস্যু সাহাব উদ্দিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগি জনসাধারণ। চিংড়ি জোনের ত্রাস সাহাব উদ্দিন বর্তমানে মাজার টু মাজার নাম দিয়ে পুলিশের হাত থেকে রক্ষায় নানা কৌশল হাতে নিয়েছে। এমনকি গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে মাননীয় সাংসদকে ফুল দেয়ার একটি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টায় মেতে উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ডাকাত সর্দার সাহাব উদ্দিনের দস্যু বাহিনীর নেতৃত্বে সাগরে দস্যুতা, জেলেদের মাছ লুট, উপকূলীয় মৎস্য,চিংড়ি জোনে নিজ মালিকানাধীন ঘেরের মত জাল বসিয়ে মাছ ও মালামাল লুট করে চলছে। এই বাহিনীকে প্রকাশ্যে বাধা দেওয়ার মত ক্ষমতা কাহারো নাই। প্রকাশ্যে অস্ত্র ধরে এসব অপকর্ম ও দস্যুতা চালিয়ে গেলেও বার বার প্রশাসনের লোখ চক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে অধরা থেকে যাচ্ছে ডাকাত সাহাব উদ্দিন বাহিনী। এছাড়াও সাগরে মাঝি-মাল্লাদের বোট আটকিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় এবং সাগরপথে টেকনাফের ইয়াবা সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসে ঢাকা-শহরে লবণবোঝাই ট্রাকে করে ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছে সাহাব উদ্দিন বাহিনী। তাই স্থানীয়রা গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে এসব দস্যুদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগি মৎস্যঘের মালিক-চাষী ও সচেতন মহল।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছি সাহাব উদ্দিন নামের একটি বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের কথা। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছেন। এরপরও পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং চিংড়ি জোনের মৎস্য ঘের,মালিক-চাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.