চকরিয়া হাসপাতাল সড়কে বেড়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিবাদ করতে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট

চকরিয়া অফিস:
চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল সড়কে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। এসব থেকে পরিত্রান পেতে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো পরিত্রান না পাওয়ায় সর্বশেষ গত ২৩ ডিসেম্বর সকাল দশটায় হামলার শিকার হয়েছেন জামাল উদ্দিন নামে এক প্রতিবাদী। হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা নং ৩৪ জিআর ৫৬৮/ ১৯ দায়ের করেছেন। বাদী মোঃ জামাল উদ্দিন স্থানীয় পৌর ৮নং ওয়ার্ডের সোসাইটি পাড়াস্থ মরহুম মাওলানা বদরুদ্দোজা হেলালীর প্রথম পুত্র ও চকরিয়া হাসপাতাল সড়কের মাদরাসা মার্কেটস্থ ডিজিটাল ডেন্টাল সার্জারী চেম্বারের মালিক এবং ল্যাব ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের চকরিয়া উপজেলার সভাপতি। মামলায় আসামি করা হয়েছে অভিযুক্ত স্থানীয় মৃত ফেরদৌস আহমদের পুত্র যথাক্রমে মহিউদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন, শাহ নেওয়াজ, কাইছার হামিদ ও রানা হামিদ এবং হাজিয়ান এলাকার জনৈক বাপ্পীকে। থানার উপ পরিদর্শক মোঃ মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ দল নিয়ে ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গেছে, উল্লেখিত আসামিরা চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল সড়কে দুর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারনার আশ্রয় নেয়াসহ রোগীদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল সেট, স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে নানাভাবে অপরাধ সংগঠিত করে আসছে। সর্বশেষ ২৩ডিসেম্বর সকালে কয়েকজন রোগীকে হাসপাতাল সড়কের টানা হেচড়া করে। এসময় জামাল উদ্দিন তাদেরকে বাধা সৃষ্টি করে এবং এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানায়। কিন্তু তারা উল্টো ক্ষেপে গিয়ে উল্লেখিত জামালের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় হামলাকারীরা বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে এবং ভাঙচুর চালিয়ে অন্তত ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি সাধন করে।
ইতিপূর্বে ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন দালালের দূরত্ব ও রোগি হয়রানী বন্ধসহ আইনশৃংখলা সমূন্নত রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কে সিসি ক্যামরা স্থাপনের জন্য হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করে উপজেলা প্রশাসনে জমাও দিয়েছেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তা মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এজাহার নামীয় এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাপর আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন থেকে সরকারি হাসপাতাল সড়কে রোগি টানা হেচড়ায় জড়িত কোন দালাল পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.