প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পিএইচডি করেন হাছান মাহমুদ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পিএইচডি করেন হাছান মাহমুদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ঢাকা: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করার মধ্য দিয়ে সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে বিশ্বাস ও আস্থা অর্পণ করেছেন সেটি অক্ষুণ্ন রাখতে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার রাতে মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। এর আগে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগের সভাপতি আমাকে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও পরে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব দেন, যা আমি যথাক্রমে ১০ বছর ও ৭ বছর যাবৎ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করেছি।

ড. হাছান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়ায় আমি তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মূলত তিনি আমাকে ছাত্রলীগের একজন সাধারণ কর্মী থেকে টেনে এনে আজকের এই পর্যায়ে এনেছেন। এখানে আমার ভূমিকা গৌণ। তিনি মায়ের মমতা ও পরম স্নেহে দল ও সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করেছেন।

স্মৃতিচারণ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমার যখন বিদেশে লেখাপড়ার সুযোগ আসে, আমি যেতে চাইনি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে জোর করে বিদেশে পড়তে পাঠিয়েছিলেন। পড়তে যাওয়ার পর সেখানে মাস্টার্স করার পর দেশে চলে আসতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছেন, তুমি পিএইচডি না করে দেশে আসবে না। অর্থ্যাৎ তাঁর আদেশে, নির্দেশে আমি পিএইচডি পর্যায়ে লেখাপড়া করতে বাধ্য হই।

‘শুধু দল ও সরকারের ক্ষেত্রে নয়, আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাঁর উৎসাহ, জোর ছিল। সে কারণে আমি এত পড়াশোনা করতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা জানেন, এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সেটি করতে বলেছেন। এর আগে আমি জাহাঙ্গীরনগর, নর্থ সাউথ ও ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতাম। এক্ষেত্রেও সবসময় তাঁর প্রচণ্ড সমর্থন আমার প্রতি ছিল।’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ আজ সমার্থক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে ছিন্নভিন্ন, বিভক্ত করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যারা মনে করতো, এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়া দূর থাক, মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারবে না, তাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে, বঙ্গবন্ধুহীন আওয়ামী লীগকে মায়ের স্নেহে লালন ও সুসংগঠিত করে পরপর তিনবারসহ চার চার বার রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে গেছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু তাকে স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিনি বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের পথে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের হাত ধরে দেশ আজ বহুদুর এগিয়ে গেছে।

আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা, যে লক্ষ্যের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, আওয়ামী লীগ চায় দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে। এদেশের সমস্ত অর্জনের সাথে আওয়ামী লীগ যুক্ত। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজ আমাদের যত অর্জন, সে সমস্ত অর্জনও আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার, যিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশকে শুধু উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরই নয়, রাজনীতিকেও পরিশুদ্ধ করতে। ১৯৭৫ সালের পর রাজনীতিতে বণিকায়ন ও দুর্বৃত্তায়ন ঘটিয়েছিল জিয়াউর রহমান, সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেছিল এরশাদ সাহেব এবং বেগম জিয়া তা ষোলকলায় পূর্ণ করেছে। সেই ধারা থেকে রাজনীতিকে উদ্ধার করে, রাজনীতি যে একটি ব্রত, তা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

আওয়ামী লীগের লক্ষ্য উন্নত রাষ্ট্রই শুধু নয়, রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করা ও উন্নত জাতি গঠন করা, বলেন দলের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.