মাতামুহুরীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পাম্প মেশিন বসিয়ে চলছে বালু লুটের মহোসব

এম রায়হান চৌধুরী চকরিয় চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাম্প মেশিন বসিয়ে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। স্থানীয় প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের পরও দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে এভাবে বালু লুটের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর এলাকার বিপুল পরিমাণ জনবসতি, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থার কারনে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল।
অভিযোগ উঠেছে, মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতরা ক্ষেত্র-বিশেষে ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙ্গিয়ে চালাচ্ছে রমরমা ব্যবসা। বর্তমানে নদীর তীর এলাকায় বালু খেকোদের কেউ কেউ মিশিন বসিয়ে আবার কেউ সরকারি খাস কিংবা ব্যক্তি মালিকনাধীন জমি দখল করে অব্যাহত রেখেছে বালু লুটের মহোৎসব। এ অবস্থার কারনে বালু উত্তোলন এলাকায় নদীর বাঁক পরিবর্তন হয়ে ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্টান, শিক্ষা ও ধর্মীয় উপসানালয়। ইতোমধ্যে নদীতে সহায় সম্পদ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পাহাড়ে কিংবা অন্যস্থানে। তারপরও বালু উত্তোলন বন্ধ করার কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে নদীর তীর এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বেড়েছে।
জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর উজানে চকরিয়া উপজেলার বুমবিলছড়ি থেকে শুরু হয়ে নীচের পয়েন্টে সাহারবিল-রামপুর এলাকায় নদীর বিভিন্ন স্থানে মেশিন বসিয়ে একাধিক চক্র বালু উত্তোলন কাজে জড়িত রয়েছে। এসব বালু প্রতিদিন শত শত ডাম্পার ট্রাক যোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশের্^, সাহারবিল জলদাশ পাড়া, সুরাজপুর, পৌরসভার মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতুর নীচে, পশ্চিম দিগরপানখালী ফকিরাখীল, উত্তর ঘুনিয়াসহ একাধিক পয়েন্ট থেকে ক্ষমতাসীন নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে লুটেরা চক্র অবৈধ ভাবে বালু অব্যহত রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালু নিয়ে ডাম্পার ট্রাক গাড়ি গুলো গন্তব্যে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে এলাকার বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সড়ক গুলো চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণ। অপরদিকে বালু বোঝাই গাড়ির বেপরোয়া চলাচল করার সময় হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এমআর মাহমুদ বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অধীন চকরিয়া উপজেলায় অন্তত ১৩টি বৈধ বালু মহাল রয়েছে। এসব বালু মহাল প্রতিবছর সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু গেল কয়েকবছর ধরে মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে সরকারি ইজারা নেয়া বালু মহাল গুলোতে বেচাবিক্রি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা সংকট নিরশনকল্পে অবশ্য বালু উত্তোলন করা যায়। তা করতে হবে নদীর মাঝ পয়েন্ট থেকে। তবে জড়িতরা তা না করে বালু উত্তোলন করছেন তীর এলাকা থেকে। ফলে নদীর তীর এলাকার মানুষ হারাচ্ছে তাদের মূল্যবান সম্পদ।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Application to the Ministry of Information for registration.